ঘুষ দাবির অডিওর প্রাথমিক সত্যতা, জাজিরা থানার এসআই প্রত্যাহার
যোগফল প্রতিবেদক:
শরীয়তপুরের জাজিরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্তের নামে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে জেলা পুলিশ। এরপর তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে সাময়িক বরখাস্তের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শরীয়তপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জাকারিয়া রহমান।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের মালেক শেখের মেয়ে ইতি আক্তারের সঙ্গে জাজিরা পৌরসভার সোনার দেউল এলাকার নূর মোহাম্মদ শেখের ছেলে সাত্তার শেখের বিয়ে হয়।
বিয়ের পর যৌতুকের দাবিতে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ করেন ইতি আক্তার। এ নিয়ে একাধিকবার পারিবারিক ও স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
ইতি আক্তারের অভিযোগ, সর্বশেষ গত ১৭ আগস্ট রাতে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
এরপর গত ৪ সেপ্টেম্বর স্বামী সাজ্জাদ শেখসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পারিবারিক বিরোধ, শারীরিক নির্যাতন ও যৌতুক দাবির অভিযোগ এনে জাজিরা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ইতি আক্তার। অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই রফিকুল ইসলাম।
তদন্তের অংশ হিসেবে বাদীপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পর ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারীর নিকটাত্মীয় সৌদি প্রবাসী দুলাল মোড়লের সঙ্গে মুঠোফোনে কথোপকথনের সময় টাকা পাঠানোর জন্য নিজের বিকাশ নম্বর দেন এসআই রফিকুল ইসলাম। ওই কথোপকথন অডিও রেকর্ড করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। পরে অডিও কথোপকথন যাচাই-বাছাই করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে রফিকুল ইসলামকে জাজিরা থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
শরীয়তপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকারিয়া রহমান বলেন, ‘উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ এসেছিল। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তানজিলা / অনলাইন
ডেস্ক / যোগফল.কম



আপনার মতামত লিখুন